টানা নয় মাস সংকুচিত মার্কিন শিল্পোৎপাদন খাত

যুক্তরাষ্ট্রে শিল্পোৎপাদন খাত নভেম্বর পর্যন্ত টানা নয় মাস সংকুচিত হয়েছে। গত মাসে দেশটিতে নতুন ক্রয়াদেশ কমেছে ও বেড়েছে কাঁচামালের দাম।

যুক্তরাষ্ট্রে শিল্পোৎপাদন খাত নভেম্বর পর্যন্ত টানা নয় মাস সংকুচিত হয়েছে। গত মাসে দেশটিতে নতুন ক্রয়াদেশ কমেছে ও বেড়েছে কাঁচামালের দাম। এছাড়া আমদানীকৃত পণ্যের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত শুল্কের প্রভাব এখনো জোরালো। এসবের সম্মিলিত প্রভাবে মার্কিন শিল্পোৎপাদনে সংকোচন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের। খবর রয়টার্স।

মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টের (আইএসএম) তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশটির শিল্পোৎপাদন পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ২-এ। অক্টোবরে এ সূচক মান ছিল ৪৮ দশমিক ৭।

পিএমআই মান কোনো খাতে ৫০-এর বেশি হলে তা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বোঝায়। আর ৫০-এর কম হলে তা সংকোচন বোঝায়।

আইএসএমের সমীক্ষায় পরিবহন সরঞ্জাম খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ট্রাম্প আরোপিত শুল্কের কারণে তারা ছাঁটাই শুরু করেছে। শুল্ক পরিস্থিতির কারণে এখন স্থায়ী পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কর্মী সংখ্যা কমানো, শেয়ারহোল্ডারদের নতুন নির্দেশনা দেয়া ও রফতানি খাতে বিদেশে নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা।

মার্কিন আমদানীকারকরা বিদেশী গাড়ি ও যন্ত্রাংশের জন্য বছরে ৪৬ হাজার কোটি ডলারের বেশি খরচ করেন। গত মে মাসে খাতটির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। পরে কিছু দেশের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো হয়। তবে ১ নভেম্বর থেকে আমদানীকৃত মাঝারি ও ভারী ট্রাক এবং যন্ত্রাংশের ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

স্যানট্যান্ডার ইউএস ক্যাপিটাল মার্কেটসের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্টিফেন স্ট্যানলি বলেন, ‘অনিশ্চিত শুল্ক পরিস্থিতির কারণে শিল্পোৎপাদন খাতে এখনো অস্থিরতা রয়ে গেছে।’

আইএসএমের তথ্যমতে, নতুন ক্রয়াদেশ সূচক নভেম্বরে নেমে এসেছে ৪৭ দশমিক ৪-এ। আগের মাসে এটি ছিল ৪৯ দশমিক ৪। গত ১০ মাসের মধ্যে নয় মাসই সূচকটি সংকুচিত হয়েছে। শুল্কের কারণে কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা কমেছে। চাহিদা কমায় সরবরাহ চেইনেও আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তি দেখা যাচ্ছে। তবে যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারকরা বলছে, আমদানি পণ্য পরিবহনের সময় এখন বাড়ছে।

বেশকিছু প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, শুল্ক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সামগ্রিক চাহিদা দুর্বল। রাসায়নিক পণ্য প্রস্তুতকারীরা বলছে, আঠা ও সিলান্টের চাহিদা আগের মতো নেই। ইলেকট্রিক্যাল সরঞ্জাম প্রস্তুতকারীরা জানান, বাণিজ্যসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা তাদের ব্যবসা পরিকল্পনায় সমস্যা তৈরি করছে।

কাঁচামালের দামও বেড়েছে। আইএসএমের প্রাইসেস-পেইড সূচক নভেম্বরে বেড়ে হয়েছে ৫৮ দশমিক ৫, যা আগের মাসে ছিল ৫৮। ন্যাশনওয়াইডের অর্থনীতিবিদ ওরেন ক্লাচকিন বলেন, ‘এটি পণ্যমূল্যে ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকি বজায় থাকার ইঙ্গিত দেয়।’

আইএসএম জানিয়েছে, শিল্পোৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান টানা ১০ মাস ধরে কমছে। সংস্থাটির সমীক্ষা কমিটির চেয়ার সুসান স্পেন্স বলেন, ‘আমাদের সদস্যদের ৬৭ শতাংশ জানিয়েছে যে তাদের প্রতিষ্ঠানে এখনো কর্মী কমানোই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে চলছে।’

আরও